শ্রীশ্রী দুর্গা সপ্তশতী পাঠ — প্রথম পর্ব
আপনার নির্দেশ অনুযায়ী বাংলা হরফে সংস্কৃত মূল শ্লোক এবং তার সহজ বাংলা অর্থ দেব। দুর্গা সপ্তশতীর প্রচলিত পাঠ ১৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত; বিভিন্ন মুদ্রিত সংস্করণে কিছু পাঠভেদ ও শ্লোক গণনার পার্থক্য রয়েছে।
মঙ্গলাচরণ
ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ।
ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং চামুণ্ডায়ৈ বিচ্চে।
অর্থ: এই নবাক্ষরী মন্ত্রে দেবীর জ্ঞানশক্তি, মহাশক্তি, আকর্ষণশক্তি এবং চামুণ্ডারূপের প্রতি প্রণতি নিবেদিত হয়। এটি শাক্ত উপাসনার একটি প্রসিদ্ধ মন্ত্র।
প্রথম অধ্যায় — মধু-কৈটভ বধ
প্রথম চরিত্র — মহাকালীর মাহাত্ম্য
এই অধ্যায়ে রাজা সুরথ ও সমাধি নামক বৈশ্যের দুঃখের পটভূমিতে মহামায়ার প্রভাব এবং মধু-কৈটভ অসুরের বিনাশের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
১. মার্কণ্ডেয় ঋষির বর্ণনার সূচনা
সংস্কৃত শ্লোক — বাংলা হরফে
সাবর্ণিঃ সূর্যতনয়ো যো মনুঃ কথ্যতে অষ্টমঃ।
নিশাময় তদুৎপত্তিং বিস্তরাদ্গদতো মম॥
বাংলা অর্থ: সূর্যদেবের পুত্র সাবর্ণি যিনি অষ্টম মনু বলে পরিচিত, তাঁর উৎপত্তির কাহিনি আমি বিস্তারিতভাবে বলছি; মনোযোগ দিয়ে শোনো।
পাঠভেদে শ্লোকের শব্দ ও বিন্যাস কিছুটা আলাদা হতে পারে।
প্রথম অধ্যায়ের মূল কাহিনি ও বাংলা ভাবার্থ
ঋষি মেধা রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্যকে মহামায়ার প্রভাব ব্যাখ্যা করেন। মহামায়ার শক্তিতে জগৎ মোহাচ্ছন্ন হয়; তিনিই আবার জ্ঞান ও মুক্তির পথ উন্মুক্ত করেন। এরপর বর্ণিত হয়, সৃষ্টির অন্তিম পর্বে ভগবান বিষ্ণু যোগনিদ্রায় নিমগ্ন থাকাকালে মধু ও কৈটভ নামে দুই অসুরের আবির্ভাব ঘটে। ব্রহ্মার প্রার্থনায় দেবী যোগনিদ্রা বিষ্ণুকে জাগ্রত করেন এবং বিষ্ণু অসুরদ্বয়কে বধ করেন।
প্রথম অধ্যায়ের মূল শিক্ষা: মহামায়া একই সঙ্গে জগতের মোহশক্তি এবং সেই মোহ অতিক্রম করে সত্য উপলব্ধির শক্তি।
সম্পূর্ণ ১৩ অধ্যায়ের পাঠ
দেবী মাহাত্ম্যম্ — মূল সংস্কৃত ও অর্থ
এখানে অধ্যায়ভিত্তিক পাঠ এবং প্রতিটি শ্লোকের অর্থ পাওয়া যাবে। বাংলা হরফে পাঠ করতে চাইলে সংস্কৃত পাঠের সঙ্গে বাংলা লিপ্যন্তর মিলিয়ে নিতে পারবেন।
পরবর্তী পর্বে প্রথম অধ্যায়ের অবশিষ্ট শ্লোকগুলি থেকে ধারাবাহিকভাবে এগোনোই যথাযথ হবে। শাস্ত্রীয় পাঠে শব্দ, ছন্দ ও মন্ত্রের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ; তাই যাচাই না করা শ্লোককে মূল পাঠ বলে উপস্থাপন করব না।
জয় মা চণ্ডী। জয় মা দুর্গা। 🙏
No comments:
Post a Comment