Saturday, October 17, 2026

ভারত: আমাদের অতীত, আমাদের বর্তমান এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

 

ভারত: আমাদের অতীত, আমাদের বর্তমান এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

আক্রমণ সহ্য করেও যে সভ্যতা তার পরিচয় রক্ষা করেছে, সেই ভারত আজও এগিয়ে চলেছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

আমাদের একটি গতকাল ছিল। আমাদের একটি আজ আছে। এবং আমাদের একটি আগামীকালও থাকবে।

যে জাতি তার অতীতকে বুঝতে পারে, সেই জাতি বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে এবং ভবিষ্যৎকে প্রজ্ঞার সঙ্গে নির্মাণ করতে পারে। ইতিহাস কেবল স্মৃতির সমষ্টি নয়; ইতিহাস আমাদের শিক্ষক, আমাদের সতর্কবার্তা, আমাদের অনুপ্রেরণা এবং আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি।

যাঁদের নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে গভীর পরিচয় নেই, তাঁরা হয়তো সহজে উপলব্ধি করতে পারবেন না—কীভাবে একটি প্রাচীন সভ্যতা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আক্রমণ, সংঘাত ও পরিবর্তনের মধ্যেও তার সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে।

ভারতকে বুঝতে হলে বর্তমানের সীমানার বাইরেও তাকাতে হবে। উপলব্ধি করতে হবে তার সভ্যতাগত ধারাবাহিকতা, দার্শনিক চিন্তাধারা, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান জ্ঞানভাণ্ডারের গভীরতা।

আমাদের অতীত কোনও বোঝা নয়। অতীত আমাদের শিক্ষা, আমাদের সংরক্ষণযোগ্য ঐতিহ্য এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার এক মহান দায়িত্ব।

আমরা টিকে থেকেছি, আমরা শিখেছি, আমরা এগিয়ে চলব

ভারতের ইতিহাসে রয়েছে বিভিন্ন আক্রমণ, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সাংস্কৃতিক সংঘাত এবং এমন বহু ঘটনা, যা এই উপমহাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলকে পরিবর্তিত করেছে। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য, দর্শন, উপাসনালয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

কিন্তু হিন্দু সভ্যতা টিকে থেকেছে। তার দর্শন, শাস্ত্র, উৎসব, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং বিভিন্ন চিন্তাধারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রবাহিত হয়েছে।

এই স্থায়িত্বের রহস্য কেবল প্রাচীন মন্দির, ঐতিহাসিক স্থাপত্য কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক স্মৃতি, জ্ঞানচর্চা এবং নিজেদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে।

যাঁরা ভেবেছিলেন, এই প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যকে সহজেই মুছে ফেলা সম্ভব, তাঁরা তার শিকড়ের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেননি।

ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট—জ্ঞান, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত স্মৃতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি সভ্যতাকে কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার উত্থান-পতন দিয়ে বিচার করা যায় না।

আমাদের ইতিহাসকে সততার সঙ্গে অধ্যয়ন করতে হবে। তার গৌরবময় অধ্যায়ের পাশাপাশি বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলিকেও স্বীকার করতে হবে। অতীতকে স্মরণ করার উদ্দেশ্য হোক আমাদের ঐতিহ্য রক্ষার সংকল্পকে দৃঢ় করা—অন্য ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো নয়।

“বসুধৈব কুটুম্বকম্”—সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার

হাজার হাজার বছর আগে ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্য মানবসমাজকে এক অসাধারণ আদর্শের শিক্ষা দিয়েছিল—

“वसुधैव कुटुम्बकम्”

বসুধৈব কুটুম্বকম্—সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার।

মহা উপনিষদে উল্লিখিত এই বাণীর মূল তাৎপর্য হলো, সমগ্র পৃথিবীকে একটি বৃহত্তর পরিবারের দৃষ্টিতে দেখা।

এই দর্শন সংকীর্ণ পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শক্তিশালী হওয়ার জন্য বিদ্বেষী হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং নিজের ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব অনুভব করার জন্য অন্যের ঐতিহ্যকে অবজ্ঞা করারও প্রয়োজন নেই।

তবে বিশ্বভ্রাতৃত্বের অর্থ অসহায়তা নয়। মানবিকতা রক্ষার অর্থ জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার অর্থ আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। সহনশীলতার অর্থ সন্ত্রাসবাদ, হিংসা কিংবা জনশৃঙ্খলা ধ্বংসের মতো অপরাধকে মেনে নেওয়া নয়।

আমরা মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েও ভারতকে রক্ষা করতে পারি। আমরা শান্তির পথে থেকেও আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারি। আমরা সহনশীল হয়েও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন থাকতে পারি।

গতকালের শিক্ষা থেকে আজকের দায়িত্ব

ইতিহাস আমাদের এটাও শেখায় যে, যথাযথ প্রস্তুতি ও বিপদের বাস্তব মূল্যায়ন ছাড়া সংযম কখনও কখনও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ভারতের ভূখণ্ডগত ইতিহাস জটিল। বিভিন্ন রাজ্য, সাম্রাজ্য, ঔপনিবেশিক শাসন, যুদ্ধ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং পরিবর্তিত সীমান্তের মধ্য দিয়ে এই ইতিহাস গড়ে উঠেছে।

আমাদের অতীতকে আবেগের পরিবর্তে বাস্তববোধ দিয়ে বিচার করতে হবে। আগ্রাসনকে মহিমান্বিত করা যেমন অনুচিত, তেমনই নিষ্ক্রিয়তাকেও সর্বদা প্রজ্ঞার পরিচয় বলে মনে করা ভুল।

একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের মধ্যে থাকতে হবে সংঘাত প্রতিরোধের বিচক্ষণতা, শত্রুভাবাপন্ন কার্যকলাপ নিরুৎসাহিত করার সক্ষমতা এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার দৃঢ় সংকল্প।

আজকের ভারতকে তার সভ্যতাগত মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক সক্ষমতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সামরিক প্রস্তুতি, গোয়েন্দা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কূটনীতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক শক্তি পরস্পরের বিরোধী নয়। যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তারা একে অপরকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

নতুন ভারত হবে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু অহংকারী নয়; শান্তিপ্রিয়, কিন্তু দুর্বল নয়; মানবিক, কিন্তু অবিবেচক নয়; শক্তিশালী, কিন্তু অন্যায়কারী নয়।

যেখানে সম্ভব শিক্ষা, যেখানে প্রয়োজন আইনানুগ ব্যবস্থা

মানুষের আচরণ সব সময় যুক্তি, সহমর্মিতা কিংবা দায়িত্ববোধ দ্বারা পরিচালিত হয় না। তাই সমাজকে শুধু নৈতিক শিক্ষা ও বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করলে চলে না। প্রয়োজন ন্যায্য আইন, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা।

অজ্ঞতার মোকাবিলায় আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষা। ভুল বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে সংলাপ। প্রকৃত অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার।

কিন্তু সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, শত্রুপক্ষকে জেনেশুনে সহায়তা করা কিংবা অন্য কোনও গুরুতর অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে শুধু সদিচ্ছার আবেদন যথেষ্ট নয়। পেশাদার ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নির্ধারিত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সম্পদ, প্রভাব, মতাদর্শ, প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান কিংবা বিদেশি যোগাযোগের কারণে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকেন।

একই সঙ্গে, শুধুমাত্র বিদেশি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। অর্থায়নের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কার্যকলাপের ভিত্তিতে আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আমাদের লক্ষ্য হবে স্পষ্ট—দেশকে সুরক্ষিত রাখা, ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কোনও বৈষম্য বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়াই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

বাক্‌স্বাধীনতা মানে দায়িত্বও

বাক্‌স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য ভিত্তি। এই স্বাধীনতা নাগরিকদের সরকারি নীতির সমালোচনা করতে, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে, অনিয়ম প্রকাশ করতে এবং জাতীয় আলোচনায় অংশ নিতে সাহায্য করে।

কিন্তু স্বাধীনতার দায়িত্বশীল প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন সততা, পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান।

সরকারের সমালোচনা করা মানেই দেশবিরোধিতা নয়। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশ করা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। আইনসম্মত ও গঠনমূলক উপায়ে মতপার্থক্য প্রকাশ করা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অন্যদিকে, হিংসায় উসকানি দেওয়া কিংবা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার মতো কাজ আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

দেশপ্রেমের নামে বৈধ ভিন্নমত দমন করা যেমন অনুচিত, তেমনই স্বাধীনতার আড়ালে প্রমাণিত অপরাধকে আড়াল করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

দায়িত্বহীন স্বাধীনতার অপব্যবহার হতে পারে; জবাবদিহিহীন ক্ষমতারও অপব্যবহার হতে পারে। একটি পরিণত গণতন্ত্রকে উভয়ের বিরুদ্ধেই সতর্ক থাকতে হবে।

পচা আলুকে ঝুড়ি থেকে সরিয়ে দিন

একটি ঝুড়িতে ভালো আলুর সঙ্গে পচা আলু থাকলে, সময়মতো পচা আলু সরিয়ে না দিলে তা অন্য আলুগুলিকেও নষ্ট করতে পারে। এই পরিচিত উদাহরণের মধ্যে রয়েছে একটি বাস্তব শিক্ষা।

জাতীয় জীবনেও দুর্নীতি, হিংসা, পরিকল্পিত নাশকতা এবং প্রমাণিত অপরাধকে অবহেলা করলে তার ক্ষতিকর প্রভাব বৃহত্তর সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়তে পারে।

প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনিয়ম শনাক্ত করতে হবে, নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং আইনসম্মতভাবে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও পদ থেকে সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ করতে হবে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন হতে দেওয়া চলবে না।

তবে এই নীতির প্রয়োগ হতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে। কোনও ধর্ম, সম্প্রদায়, রাজনৈতিক গোষ্ঠী কিংবা সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ‘পচা’ বলে চিহ্নিত করা যায় না। জবাবদিহি নির্ধারিত হবে ব্যক্তির কাজ, প্রমাণ এবং প্রতিষ্ঠিত দায়িত্বের ভিত্তিতে—পূর্বধারণা বা ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে নয়।

একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্বিচারে শাস্তি দেয় না। সে অপরাধ শনাক্ত করে, প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করে এবং আইনের সীমার মধ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আগামীকাল সেই ভারতের, যে প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী

আমাদের একটি গৌরবময় অতীত রয়েছে। আমরা আমাদের বর্তমানকে গড়ে তুলছি। আর আমাদের সামনে রয়েছে একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব।

আগামী প্রজন্মের হাতে আমরা এমন এক ভারত তুলে দিতে চাই, যে তার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন, তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, নাগরিকদের সুরক্ষায় দায়িত্বশীল, জ্ঞান ও উদ্ভাবনে অগ্রগামী এবং ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের দেশপ্রেম প্রকাশ পাক সুশৃঙ্খল আচরণে, সৎ জনসেবায়, জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে অবিচল নিষ্ঠায়।

অতীতকে স্মরণ করব, কিন্তু অতীতের বন্দি হয়ে থাকব না। বর্তমানের মুখোমুখি হব নির্ভয়ে। আর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব সাহস, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণ করুন। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করুন। সংবিধানসম্মত মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখুন। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনুন। একটি শক্তিশালী ভারত গড়ে তুলুন।

বন্দে মাতরম্! জয় হিন্দ!

— অশোক কুমার সিং
অ্যাডভোকেট, হাইকোর্ট, কলকাতা

No comments:

Post a Comment