জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় কর্তব্য ও জবাবদিহি
দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান
ভারতের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য হলো সংবিধানকে সম্মান করা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা।
যাঁরা সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, শত্রুপক্ষকে জেনেশুনে সহায়তা করা কিংবা দেশের বিরুদ্ধে অন্যান্য গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি সম্পদ, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে কেউ যেন দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালনা করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সরকারি সুযোগ-সুবিধার বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য; জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও দায়মুক্তি থাকা উচিত নয়।
কোনও ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত লঙ্ঘন করেন অথবা সরকারি সুবিধার অপব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে সেই ব্যবস্থা হতে হবে আইনসম্মত, যুক্তিসংগত এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, দেশপ্রেমের প্রকৃত শক্তি সংবিধানসম্মত ন্যায়বিচারের মধ্যেই নিহিত। কাউকে কেবল ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই তাঁর মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধ এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা ভিন্নমতকে দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
ভারতের শক্তি শুধু তার সীমান্ত রক্ষার ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার মধ্যেও তার প্রকৃত শক্তি নিহিত। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়, প্রমাণিত অপরাধের আইনানুগ বিচার করে, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ করে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী প্রয়োগ প্রতিহত করে।
আমাদের অঙ্গীকার হোক—
সরকারি অর্থের অপব্যবহার নয়।
দেশের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধে দায়মুক্তি নয়।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস নয়।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পরিত্যাগ নয়।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা অটুট রাখতে হবে এবং সেই সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে, যা আমাদের সকলকে একটি জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
দেশ সবার আগে। জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ন্যায়বিচার আমাদের শক্তি। সংবিধান আমাদের পথপ্রদর্শক।
জয় হিন্দ! বন্দে মাতরম্!
— অশোক কুমার সিং, অ্যাডভোকেট, হাইকোর্ট, কলকাতা
No comments:
Post a Comment