Sunday, October 18, 2026

শত্রুতা ও বিদ্বেষের জবাব দাও মহত্ত্ব ও সদ্গুণ দিয়ে

 

শত্রুতা ও বিদ্বেষের জবাব দাও মহত্ত্ব ও সদ্গুণ দিয়ে

প্রতিশোধ নয়, নিজের চরিত্রের মহত্ত্বই হোক তোমার প্রকৃত পরিচয়

“অন্যের বিদ্বেষকে নিজের চরিত্রের নিয়ন্ত্রক হতে দিও না। অন্যের আচরণ তার মানসিকতার পরিচয় দেয়, আর তোমার প্রতিক্রিয়া তোমার চরিত্রের পরিচয় বহন করে।”

— অশোক কুমার সিংহ, অ্যাডভোকেট, হাইকোর্ট কলকাতা

জীবনের পথে আমাদের নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। কেউ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, আবার কেউ কখনও ঈর্ষা, বিদ্বেষ, বিরোধিতা কিংবা অকারণ শত্রুতার মাধ্যমে আমাদের মানসিক শান্তিকে বিঘ্নিত করেন। অনেক সময় আমরা আন্তরিকভাবে কারও পাশে দাঁড়াই, বিপদের দিনে সাহায্য করি, সম্মান দিয়ে কথা বলি; অথচ বিনিময়ে পাই অবিশ্বাস, অকৃতজ্ঞতা, অপমান কিংবা শত্রুতা।

এমন অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক। মনে ক্ষোভ জন্মায়, আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এবং কখনও কখনও মনে হয়, যে ভাষায় অন্যজন আমাদের সঙ্গে আচরণ করেছে, তাকেও সেই ভাষাতেই উত্তর দেওয়া উচিত।

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাদের বিবেক, ধৈর্য ও চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয়।

কেউ তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলেই তুমি তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে বাধ্য নও। কেউ তোমাকে অপমান করলেই তোমাকে অপমানের পথ বেছে নিতে হবে না। শত্রুতার জবাব সদ্গুণ দিয়ে দেওয়াই প্রকৃত মানসিক শক্তির পরিচয়।

এর অর্থ এই নয় যে অন্যায় সহ্য করে যেতে হবে, অন্যায়কারীর সামনে মাথা নত করতে হবে কিংবা নিজের অধিকার বিসর্জন দিতে হবে। এর প্রকৃত অর্থ হলো—অন্যের অন্যায় আচরণ যেন তোমার নিজের নীতি, বিবেক ও মানবিকতাকে ধ্বংস করতে না পারে।

রাগ করা সহজ, প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবা সহজ, অপমানের বদলে অপমান ফিরিয়ে দেওয়াও সহজ। কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখা, মর্যাদা বজায় রাখা এবং ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রকৃত সাহস ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।

১. যার বিরোধিতা করছ, তার মতো হয়ে যেয়ো না

কেউ অসত্য বললে তোমাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে না। কেউ অন্যায় করলে তোমাকে অন্যায় করতে হবে না। কেউ তোমাকে হেয় করার চেষ্টা করলে তোমাকে তার মর্যাদা নষ্ট করার প্রতিযোগিতায় নামতে হবে না।

কারণ, অন্যের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি তুমি নিজেই অন্যায়ের পথ বেছে নাও, তাহলে তোমার প্রতিবাদের নৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যের চরিত্রের বিচার হয় তার আচরণে, আর তোমার চরিত্রের বিচার হয় তুমি সেই আচরণের প্রতিক্রিয়ায় কী করছ তার মাধ্যমে।

মনে রেখো, অন্যের ঈর্ষা যেন তোমাকে ঈর্ষাপরায়ণ না করে, অন্যের অহংকার যেন তোমাকে অহংকারী না করে এবং অন্যের বিদ্বেষ যেন তোমার হৃদয়ের সমস্ত কোমলতা ও মানবিকতা কেড়ে না নেয়।

কাউকে ভালো না বাসলেও তার প্রতি অন্যায় না করা যায়। কারও আচরণের বিরোধিতা করেও নিজের ভাষা ও ব্যবহারে শালীন থাকা যায়। কারও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে দূরে থাকা যায়।

প্রকৃত জয় অন্যের মতো হয়ে যাওয়ার মধ্যে নয়; নিজের নীতিতে অটল থাকার মধ্যে।

২. সদ্গুণ দুর্বলতা নয়, শক্তির পরিচয়

সমাজে অনেকেই মনে করেন, যে মানুষ ক্ষমা করে, সে দুর্বল; যে মানুষ শান্ত থাকে, সে ভীত; আর যে মানুষ প্রতিটি অপমানের জবাব দেয় না, সে হয়তো নিজের সম্মান রক্ষা করতে জানে না।

এই ধারণা সঠিক নয়।

নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় অন্যকে পরাস্ত করার চেয়েও কঠিন। উত্তেজিত হয়ে কথা বলা সহজ, কিন্তু সংযম বজায় রেখে সত্য কথা বলা কঠিন। প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষায় অন্ধ হয়ে যাওয়া সহজ, কিন্তু ন্যায়বিচারের পথ বেছে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন বিবেক ও দূরদর্শিতা।

যে ব্যক্তি অপমানিত হয়েও নিজের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে পারেন, অন্যায়ের মুখোমুখি হয়েও নিজের নীতি বিসর্জন দেন না এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিকতা ধরে রাখেন, তিনি দুর্বল নন। তিনি নিজের আবেগের উপর কর্তৃত্ব করতে শিখেছেন।

সদ্গুণের অর্থ অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা নয়। সদ্গুণের অর্থ হলো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েও নিজের বিবেককে কলুষিত না করা।

অন্যের প্রতি সদয় হও, কিন্তু নিজের মর্যাদার প্রশ্নে সচেতন থাকো। ক্ষমা করতে শেখো, কিন্তু অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ো না। শান্ত থাকো, কিন্তু প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে নিজের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াও।

৩. ভালোবাসা মানে সবকিছু সহ্য করা নয়

মানবিকতা, ক্ষমা ও ধৈর্যের কথা বলতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেলে চলবে না—সদ্গুণের অর্থ সীমাহীন সহনশীলতা নয়।

কেউ বারবার বিশ্বাস ভঙ্গ করলে, ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করলে কিংবা তোমার সরলতার সুযোগ নিলে, সেই আচরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা তোমার অধিকার।

তুমি ভদ্র থাকতে পারো, কিন্তু কাউকে তোমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অবাধ সুযোগ দিতে হবে না। তুমি ক্ষমা করতে পারো, কিন্তু অবিলম্বে আগের মতো বিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে বাধ্য নও। তুমি কারও মঙ্গল কামনা করতে পারো, কিন্তু নিজের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে তার কাছ থেকে দূরত্বও বজায় রাখতে পারো।

সদ্গুণের সঙ্গে আত্মসম্মানের কোনও বিরোধ নেই; বরং প্রকৃত সদ্গুণের সঙ্গে প্রজ্ঞা ও আত্মমর্যাদা থাকা অপরিহার্য।

যেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেখানে আলোচনা করো। যেখানে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব, সেখানে সত্য ও যুক্তির সাহায্য নাও। আর যেখানে বারবার অন্যায় হচ্ছে, সেখানে প্রয়োজনীয় সীমারেখা নির্ধারণ করো এবং নিজের অধিকার রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করো।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় হওয়া এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এক বিষয় নয়। প্রথমটি ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা, দ্বিতীয়টি অনেক সময় নিজের শান্তিকে ক্ষয় করার কারণ।

৪. প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারকে বেছে নাও

প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা মানুষকে অতীতের আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন বেঁধে রাখতে পারে। আমরা যখন কেবল এই চিন্তায় মগ্ন থাকি যে কীভাবে অন্য মানুষটিকে কষ্ট দেওয়া যায়, তখন অজান্তেই তাকে আমাদের চিন্তা, সময় ও মানসিক শান্তির উপর অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে ফেলি।

কিন্তু ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য আলাদা।

প্রতিশোধ ব্যক্তিগত ক্ষোভের তৃপ্তি খোঁজে; ন্যায়বিচার সত্য উদ্‌ঘাটন, দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের যথাযথ প্রতিকারের পথ অনুসরণ করে।

কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারও অধিকার লঙ্ঘিত হলে সেই অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন। কেউ অসত্য অভিযোগ করলে প্রমাণ ও যুক্তির ভিত্তিতে তার মোকাবিলা করতে হবে।

কিন্তু এই সমস্ত কাজ করতে গিয়েও আইন, নৈতিকতা ও সংযমের সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

প্রতিশোধ না নেওয়া মানে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়। ক্ষমা করা মানে ন্যায়বিচারের দাবি ত্যাগ করা নয়।

সত্যকে প্রতিষ্ঠা করো, নিজের অধিকার রক্ষা করো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকো। তবে এমন কিছু করো না, যার জন্য একদিন নিজের বিবেকের কাছেই তোমাকে জবাবদিহি করতে হয়।

৫. অন্যের ঈর্ষা ও অকৃতজ্ঞতাকে নিজের শান্তি কেড়ে নিতে দিয়ো না

পৃথিবীতে সবাই তোমার কাজের মূল্য বুঝবে না। সবাই তোমার আন্তরিকতাকে স্বীকার করবে না। কেউ তোমার সাফল্যে আনন্দিত হবে, আবার কেউ তোমার অগ্রগতিতে অসন্তুষ্টও হতে পারে।

কেউ তোমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবতে পারে, কেউ তোমার দৃঢ়তাকে অহংকার বলে ব্যাখ্যা করতে পারে। আবার কেউ তোমার সদিচ্ছাকেও ভুল বুঝতে পারে।

প্রত্যেকের ধারণা পরিবর্তন করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করাও প্রয়োজনীয় নয়।

তাই ভালো কাজ করো নিজের বিবেকের নির্দেশে, শুধু প্রশংসা পাওয়ার আশায় নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াও মানবিকতার কারণে, প্রতিদানে কৃতজ্ঞতা পাওয়ার নিশ্চয়তার উপর নির্ভর করে নয়।

তবে নিজের সামর্থ্য, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতার কথাও মনে রেখো। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের কর্তব্য, স্বাস্থ্য কিংবা ভবিষ্যৎকে অবহেলা কোরো না।

যে সমালোচনা সত্য, তা থেকে শিক্ষা নাও। যে ভুল তোমার হয়েছে, তা স্বীকার করে সংশোধন করো। কিন্তু যে বিদ্বেষের কোনও গঠনমূলক উদ্দেশ্য নেই, তাকে নিজের জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়ো না।

তোমার বিবেক হোক তোমার পথপ্রদর্শক, তোমার আচরণ হোক তোমার পরিচয় এবং তোমার ধারাবাহিক সততা হোক তোমার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ।

৬. ভারতীয় দর্শনের আলোকে সদ্গুণের শক্তি

ভারতীয় দর্শন আমাদের আত্মসংযম, ক্ষমা, কর্তব্যবোধ এবং ন্যায়ের প্রতি নিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা আমাদের কর্তব্য পালন, মনকে সংযত রাখা এবং সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। এই শিক্ষা আমাদের আবেগের বশবর্তী না হয়ে বিবেক ও কর্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করে।

অহিংসার আদর্শ মনে করিয়ে দেয় যে অন্যের প্রতি অকারণ ক্ষতি না করা মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ক্ষমার আদর্শ শেখায় যে ব্যক্তিগত আঘাত পেলেই প্রতিহিংসাকে জীবনের চালিকাশক্তি করে তোলা উচিত নয়।

তবে ক্ষমা ও অহিংসার অর্থ অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া নয়। বরং অন্যায়ের মোকাবিলা করতে গিয়েও নিজের নৈতিক ভিত্তি অটুট রাখাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভালো আচরণ করা সহজ। কিন্তু যখন কেউ তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, যখন প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে, তখনও নিজের বিবেকের নির্দেশ মেনে চলতে পারাই প্রকৃত আত্মশক্তির পরিচয়।

অন্যের আচরণ তোমার পরীক্ষার বিষয় হতে পারে, কিন্তু তোমার চরিত্রের সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।

৭. বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে ওঠো, কিন্তু সত্যের প্রতি উদাসীন হয়ো না

জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। একে যদি আমরা প্রতিটি ব্যক্তিগত বিরোধ, অপমানের প্রতিশোধ এবং অন্যের প্রতি ক্ষোভের মধ্যে ব্যয় করি, তাহলে নিজের বিকাশ, পরিবার, পেশা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য সময় ও শক্তি কমে যায়।

তাই কোন বিরোধে সাড়া দেওয়া প্রয়োজন এবং কোন উসকানিকে উপেক্ষা করাই শ্রেয়, তা বুঝতে শেখো।

কখনও নীরবতা তর্কের চেয়ে বেশি কার্যকর। কখনও দূরত্ব বজায় রাখা অপ্রয়োজনীয় সংঘাতের চেয়ে ভালো। কখনও শান্তভাবে সত্য ব্যাখ্যা করা রাগের প্রকাশের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

আবার কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, নিজের অধিকার রক্ষা করা এবং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেওয়া অপরিহার্য।

সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সত্য, ন্যায়, যুক্তি ও দায়িত্ববোধ—ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়।

তোমার বিরোধীর প্রতি দৃঢ় হও, কিন্তু অন্যায়পরায়ণ হয়ো না। নিজের অবস্থানে অটল থাকো, কিন্তু অহংকারে অন্ধ হয়ো না। অন্যের সমালোচনার মুখোমুখি হও, কিন্তু নিজের বিবেককে বিসর্জন দিয়ো না।

সব তর্কে জয়ী হওয়া জরুরি নয়। প্রতিটি অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়াও আবশ্যক নয়। অনেক সময় নিজের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাওয়া এবং নিজের চরিত্রের মর্যাদা বজায় রাখাই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর।

আমার বক্তব্য

আসুন, আমরা নিজেদের শক্তির পরিমাপ করি না কতজনকে পরাজিত করলাম, কতগুলি অপমান ফিরিয়ে দিলাম কিংবা কতজনকে শত্রু বানালাম তার ভিত্তিতে।

বরং নিজেদের বিচার করি—প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা কতটা সত্যনিষ্ঠ থাকতে পারলাম, অপমানের মুখেও কতটা মর্যাদা রক্ষা করতে পারলাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারলাম এবং বিদ্বেষের পরিবেশেও কতটা মানবিকতা বজায় রাখতে পারলাম।

অন্য কেউ ঘৃণা করলে ঘৃণাকে নিজের জীবনের ভাষা করে তুলো না। অন্য কেউ অহংকার দেখালে নিজের বিনয় হারিয়ো না। অন্য কেউ অন্যায় করলে ন্যায়ের প্রতি তোমার বিশ্বাস বিসর্জন দিয়ো না।

বিবেচনা করে উত্তর দাও। প্রয়োজনে সীমারেখা নির্ধারণ করো। নিজের অধিকার রক্ষা করো। ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে চলো। আন্তরিকভাবে সম্ভব হলে ক্ষমা করো, আর যেখানে সম্পর্ক বা সংঘাতের মধ্যে থাকা আর কোনও গঠনমূলক ফল দেয় না, সেখানে সম্মানজনকভাবে সরে আসতে শেখো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, অন্যের বিদ্বেষকে তোমার অন্তরের মহত্ত্ব ধ্বংস করতে দিয়ো না।

শত্রুতার জবাব সদ্গুণ দিয়ে দাও—এই কারণে নয় যে প্রত্যেক শত্রু তোমার সদয় আচরণের যোগ্য, বরং এই কারণে যে তোমার নিজের চরিত্র, বিবেক ও আত্মমর্যাদা তোমার কাছেই মূল্যবান।

অন্যেরা তাদের আচরণ বেছে নিক, কিন্তু তুমি নিজের আচরণের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করো।

বিদ্বেষের অবসান হোক তোমার মধ্যে, মর্যাদা তোমাকে পথ দেখাক, ন্যায় তোমাকে শক্তি জোগাক এবং সদ্গুণ হোক তোমার প্রকৃত পরিচয়।

সবচেয়ে বড় জয় অন্যের চেয়ে বেশি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠা নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও আরও প্রজ্ঞাবান, আরও শক্তিশালী এবং ন্যায়ের প্রতি আরও বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা।

জয় হিন্দ! বন্দে মাতরম্!

— অশোক কুমার সিংহ
অ্যাডভোকেট, হাইকোর্ট কলকাতা

No comments:

Post a Comment