Saturday, August 29, 2026

Sexual Harassment: The Indian Judiciary’s Uncomfortable and Often Concealed Reality

 

Sexual Harassment: The Indian Judiciary’s Uncomfortable and Often Concealed Reality

Sexual harassment within the Indian judicial system remains an uncomfortable subject—frequently discussed in whispers but rarely confronted with the transparency and institutional seriousness it demands. Courts are constitutionally entrusted with protecting dignity, equality and personal liberty. Yet allegations arising within courtrooms, judges’ chambers, bar associations and legal offices reveal a troubling contradiction: the very system expected to deliver justice may sometimes fail to provide a safe and dignified workplace to the women working within it.

The judiciary is not merely a collection of courtrooms and judges. It is an extensive professional environment comprising advocates, judicial officers, law clerks, interns, researchers, stenographers, administrative employees and support staff. Within this strongly hierarchical structure, authority, professional reputation and career opportunities are often concentrated in the hands of senior individuals. Junior advocates and interns may depend upon them for briefs, recommendations, professional exposure and future advancement. This imbalance of power can make it extremely difficult for an affected woman to protest, report misconduct or pursue a complaint without fearing professional retaliation.

For many victims, silence is not consent; it is a means of survival. A complainant may reasonably fear that she will lose professional opportunities, be removed from a chamber, denied briefs, socially isolated or branded as “difficult.” She may also face humiliating questions concerning her conduct, clothing, communications or professional relationship with the accused. In closely connected legal circles, confidentiality may disappear quickly, while rumours travel faster than formal proceedings. Consequently, the complainant may herself be placed on trial in the court of professional opinion.

The problem becomes even more serious when complaints are handled through opaque or inadequately independent procedures. Internal mechanisms must not exist merely on paper. They must be accessible, impartial, properly constituted and capable of protecting the complainant from intimidation or retaliation. Any process perceived as protecting institutional prestige rather than discovering the truth weakens public confidence. Confidentiality should safeguard the dignity of the parties and the integrity of the inquiry; it must never become a convenient curtain behind which credible allegations are buried.

At the same time, fairness requires that every complaint be examined through an impartial and credible procedure. Neither the complainant nor the respondent should be condemned merely through rumours or media speculation. The complainant must receive a safe opportunity to present her case, while the person accused must receive notice and a fair opportunity to respond. A transparent, time-bound and independent inquiry protects both sides and prevents institutional influence from determining the outcome.

The silence surrounding sexual harassment in judicial spaces is especially damaging because the judiciary is expected to set the highest constitutional and ethical standards. When persons associated with the administration of justice appear unwilling to examine misconduct within their own institutions, the moral authority of the justice-delivery system is weakened. An institution cannot persuasively defend the dignity of citizens while disregarding the dignity of those who work within its own corridors.

Meaningful reform requires functional complaint committees, independent external members, secure reporting channels, protection against retaliation, gender-sensitisation programmes and clear consequences for proven misconduct. Bar associations, judicial academies and court administrations must actively cultivate professional environments in which dignity is treated as a right rather than a favour. Anonymous data concerning the number, status and disposal of complaints may also be published without revealing identities, thereby ensuring accountability while preserving confidentiality.

Sexual harassment should not be described as the inherent character of the entire Indian judiciary, because countless judges, advocates and employees discharge their responsibilities honourably. Nevertheless, denying or concealing the problem serves neither the institution nor justice. Institutional dignity is not preserved by suppressing uncomfortable allegations; it is strengthened by confronting them fairly, courageously and transparently.

Sexual harassment in judicial institutions must therefore cease to remain a “dirty secret.” It must become the subject of honest acknowledgement, effective prevention and credible accountability. The temple of justice must be safe not only for those who approach it seeking remedies, but also for every woman who studies, works, practises and serves within its walls.


বিপদ যেকোনো সময় আসতে পারে—তবে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়

 

বিপদ যেকোনো সময় আসতে পারে—তবে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়

বিপদ কখন, কোথায় এবং কীভাবে উপস্থিত হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রকৃতির আচরণ অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, ধস, হড়পা বান, পাথর গড়িয়ে পড়া কিংবা রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি তার স্বাভাবিক অনিশ্চয়তা ও শক্তিকেও যথাযথ সম্মান করা জরুরি। বিপদ সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব না হলেও সচেতনতা, পূর্বপ্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমানো যায়।

একসময় সাধারণত মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পর্যটকেরা পাহাড়ে তুলনামূলকভাবে কম ভ্রমণ করতেন। এই সময়ে বর্ষার প্রভাবে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, নদী ও ঝরনায় হঠাৎ জল বেড়ে যায় এবং ভূমিধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়ার সম্ভাবনাও তখন বেশি থাকে। সেই কারণে অতীতে বহু মানুষ ঋতু, আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা করতেন।

কিন্তু বর্তমানে ভ্রমণের অভ্যাস ও পর্যটনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ, সহজ যানবাহন, অনলাইন বুকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণ এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে সাময়িক মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় মানুষ এখন বছরের প্রায় প্রতিটি ঋতুতেই পাহাড়ে ছুটে যাচ্ছেন। বর্ষাকালের সবুজ পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা কিংবা বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সৌন্দর্যের মোহে সম্ভাব্য বিপদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ছবিতে মনোরম বলে মনে হওয়া কোনো নির্জন পাহাড়ি পথ বাস্তবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পাহাড়ে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ভূমিধসের সতর্কতা, রাস্তার বর্তমান অবস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অবশ্যই যাচাই করা উচিত। নদী, ঝরনা, ধসপ্রবণ ঢাল কিংবা বিপজ্জনক পাহাড়ি কিনারায় অযথা এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। অতিবৃষ্টি বা দুর্যোগের সতর্কতা থাকলে ভ্রমণ স্থগিত করাই বিচক্ষণতার পরিচয়। পর্যাপ্ত ওষুধ, পানীয় জল, শুকনো খাবার, গরম পোশাক, টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। নিজের ভ্রমণসূচি পরিবারের কাউকে জানিয়ে রাখা এবং সম্ভব হলে স্থানীয় অভিজ্ঞ চালক বা গাইডের সহায়তা নেওয়াও নিরাপদ।

মনে রাখতে হবে, পর্যটন আনন্দের জন্য—জীবনকে অকারণ ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য নয়। পাহাড়ের সৌন্দর্য যেমন অপার, তেমনি তার প্রকৃতিও স্বাধীন, শক্তিশালী ও কখনো কখনো নির্মম। প্রকৃতিকে জয় করার মানসিকতা নয়, বরং তার নিয়মকে সম্মান করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিপদ যেকোনো সময় আসতে পারে; কিন্তু সময়োচিত সাবধানতা, সংযম এবং সচেতন সিদ্ধান্ত অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

ভূতেরাই ভূতে বিশ্বাসী

 

ভূতেরাই ভূতে বিশ্বাসী

“ভূতেরাই ভূতে বিশ্বাসী”—কথাটি নিছক হাস্যরস নয়; এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার এক গভীর ব্যঙ্গ। যারা নিজেরাই অন্যায়, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও অন্ধকারের আশ্রয়ে চলেন, তাঁরাই সর্বত্র একই ধরনের অশুভ শক্তির উপস্থিতি অনুভব করেন। কারণ মানুষ সাধারণত নিজের চিন্তা, চরিত্র ও অভিজ্ঞতার আলোতেই অন্যকে বিচার করে। যার অন্তর স্বচ্ছ, সে মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সম্ভাবনা খোঁজে; আর যার মনে সন্দেহ, ভয় ও অপরাধবোধ বাসা বেঁধেছে, সে প্রতিটি ছায়ার মধ্যেই ভূতের অস্তিত্ব কল্পনা করে।

অনেক সময় মানুষ নিজের দুর্বলতা ও কুকর্মকে আড়াল করার জন্য কাল্পনিক শত্রু সৃষ্টি করে। নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে সে অদৃশ্য কোনো শক্তি, বিরোধী পক্ষ কিংবা ষড়যন্ত্রকে দোষারোপ করে। অথচ প্রকৃত সত্য হলো—তার মনের মধ্যেই সেই “ভূত” বসবাস করে। অপরাধবোধ তাকে তাড়া করে, মিথ্যা তাকে আতঙ্কিত করে এবং অন্যায়ের স্মৃতি তাকে সর্বক্ষণ সন্দেহপ্রবণ করে রাখে। ফলে বাইরে কোনো ভূত না থাকলেও নিজের ছায়াকেই সে ভয় পেতে শুরু করে।

সমাজজীবনেও এমন মানুষের অভাব নেই, যারা নিজেরাই গোপনে ষড়যন্ত্র করেন, অথচ প্রকাশ্যে অন্যদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অভিযুক্ত করেন। নিজেরাই বিভ্রান্তি ছড়ান, অথচ অন্যের স্বচ্ছ বক্তব্যের মধ্যেও রহস্য খোঁজেন। নিজেরাই মানুষের ক্ষতি করেন, আবার প্রতিশোধের আশঙ্কায় সর্বক্ষণ ভীত থাকেন। তাঁদের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে—মানুষের সবচেয়ে বড় ভূত কোনো অশরীরী সত্তা নয়; বরং তার নিজের অসৎ বিবেক, গোপন ভয় এবং চাপা অপরাধবোধ।

সৎ ও সাহসী মানুষ অন্ধকারকে ভয় পায় না, কারণ তার লুকিয়ে রাখার মতো কিছু থাকে না। সত্যের আলোয় দাঁড়ানো মানুষের কাছে কল্পিত ভূতের কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু যে নিজেই অন্ধকারের অংশ হয়ে ওঠে, সে আলোকে শত্রু মনে করে এবং সামান্য শব্দেও বিপদের সংকেত শোনে। তাই যথার্থই বলা যায়—ভূতকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় তারাই, যাদের অন্তরের গভীরে কোনো না কোনো ভূত লুকিয়ে আছে।

অতএব, “ভূতেরাই ভূতে বিশ্বাসী” কথাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বাইরের অশুভ শক্তির চেয়ে অন্তরের অন্ধকার অনেক বেশি ভয়ংকর। মানুষ যদি নিজের মনকে সত্য, ন্যায় ও সততার আলোয় আলোকিত করতে পারে, তবে তার সামনে কোনো কাল্পনিক ভূত টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজেই অন্যায়ের ছায়ায় বাস করে, তার কাছে প্রতিটি ছায়াই ভূত এবং প্রতিটি সত্যই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাস্তবকে মানতে হবে, না হলে হারিয়ে যেতে হবে

 

বাস্তবকে মানতে হবে, না হলে হারিয়ে যেতে হবে

জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী চলে না। বাস্তবতা কখনো কঠিন ও অপ্রিয় হলেও তাকে অস্বীকার করে পরিবর্তন করা যায় না। বরং সত্যকে উপেক্ষা করলে সমস্যা আরও গভীর হয় এবং মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান হারিয়ে ফেলে।

বাস্তবকে মেনে নেওয়া মানে পরাজয় স্বীকার করা নয়; বরং নিজের ভুল, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকে বুঝে সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া। সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই পুরোনো চিন্তা ও পদ্ধতিকে আঁকড়ে না ধরে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হবে।

যে ব্যক্তি সত্যের মুখোমুখি হন, ভুল থেকে শিক্ষা নেন এবং সময়ের দাবি অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করেন, তিনিই টিকে থাকেন। কিন্তু যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কল্পনার জগতে বাস করেন, সময় একদিন তাঁকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। তাই বাস্তবকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করাই উন্নতি, সাফল্য ও অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র পথ।

বাস্তবকে মানতে হবে, না হলে হারিয়ে যেতে হবে

 

বাস্তবকে মানতে হবে, না হলে হারিয়ে যেতে হবে

জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছা, কল্পনা কিংবা প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত হয় না। বাস্তবতা অনেক সময় কঠিন, নির্মম এবং অপ্রিয় হতে পারে; কিন্তু তাকে অস্বীকার করলেই সে পরিবর্তিত হয়ে যায় না। বরং বাস্তবকে উপেক্ষা করলে সমস্যাগুলো আরও গভীর হয় এবং একসময় মানুষ নিজের অস্তিত্ব, অবস্থান ও সম্ভাবনা—সবকিছু হারিয়ে ফেলে। তাই জীবনে টিকে থাকতে হলে বাস্তবকে সাহসের সঙ্গে মেনে নিতে হবে।

বাস্তবকে মেনে নেওয়া মানে পরাজয় স্বীকার করা নয়। এর অর্থ হলো নিজের বর্তমান অবস্থাকে সঠিকভাবে বোঝা, দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। একজন মানুষ যদি নিজের ভুল, সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যর্থতাকে স্বীকার না করেন, তবে তাঁর পক্ষে সংশোধনের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। যে রোগী নিজের অসুস্থতাকে অস্বীকার করেন, তিনি চিকিৎসার সুযোগ হারান; যে ব্যবসায়ী বাজারের পরিবর্তন বুঝতে চান না, তাঁর ব্যবসা একসময় পিছিয়ে পড়ে; আর যে সমাজ সময়ের দাবি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়, সে সমাজ উন্নতির প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যায়।

সময় কখনো কারও জন্য অপেক্ষা করে না। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলে চলেছে—প্রযুক্তি, শিক্ষা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানুষের জীবনযাপনের পদ্ধতিতেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিতে পারে, কিন্তু শুধু অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানকে অস্বীকার করলে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা যায় না। পুরোনো পদ্ধতি যদি আর কার্যকর না হয়, তবে নতুন পথ গ্রহণ করতে হবে। পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারলে মানুষ ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

প্রকৃতিও আমাদের একই শিক্ষা দেয়। যে নদী চলতে জানে, সে নিজের পথ তৈরি করে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যায়; আর যে জল স্থির হয়ে পড়ে, তা একসময় দূষিত হয়। যে বৃক্ষ ঝড়ের সময় কিছুটা নত হতে জানে, সে ঝড় শেষে আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়; কিন্তু যে বৃক্ষ কোনোভাবেই নমনীয় হতে পারে না, প্রবল ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার আশঙ্কাই বেশি। মানুষের জীবনেও অভিযোজন, নমনীয়তা এবং বাস্তববোধ টিকে থাকার প্রধান শর্ত।

অনেক মানুষ নিজের চারপাশে কল্পনার একটি নিরাপদ জগৎ তৈরি করেন। তাঁরা সত্য শুনতে চান না, সমালোচনা গ্রহণ করেন না এবং নিজেদের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। সাময়িকভাবে এতে মানসিক স্বস্তি পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। কারণ সত্যকে কিছু সময়ের জন্য আড়াল করা যায়, কিন্তু চিরকাল মুছে ফেলা যায় না। চোখ বন্ধ করলে পৃথিবী অন্ধকার হয় না; শুধু নিজের দেখার ক্ষমতাই বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাস্তবতাকে স্বীকার করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস অথবা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা অস্বীকার করে বাহ্যিক স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা সমস্যার সমাধান করে না। বরং খোলামেলা আলোচনা, নিজের ভুল স্বীকার এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্পর্ককে রক্ষা করা সম্ভব। একইভাবে আর্থিক সংকট, কর্মক্ষেত্রের সমস্যা কিংবা পারিবারিক বিরোধকে গোপন রেখে নয়—তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেই সমাধানের পথ তৈরি করতে হয়।

বাস্তবকে মেনে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আত্মসমালোচনার সাহস। নিজের ভুল দেখা সহজ নয়। মানুষ সাধারণত প্রশংসা শুনতে ভালোবাসে, কিন্তু সংশোধনের কথা শুনতে অস্বস্তি বোধ করে। অথচ যে ব্যক্তি সত্যিকারের উন্নতি করতে চান, তাঁকে নিজের দুর্বলতার দিকে তাকাতেই হবে। কোথায় ভুল হয়েছে, কেন ব্যর্থতা এসেছে এবং কীভাবে সেই ভুল সংশোধন করা যায়—এই প্রশ্নগুলোর সৎ উত্তরই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তবে বাস্তবকে গ্রহণ করার অর্থ হতাশ হয়ে বসে থাকা নয়। বর্তমান পরিস্থিতিকে শেষ পরিণতি বলে ধরে নেওয়াও বাস্তববোধ নয়। বরং বাস্তবতা হলো পরিবর্তনের সূচনাবিন্দু। একজন দরিদ্র মানুষ নিজের আর্থিক সংকট স্বীকার করে শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন। একজন ব্যর্থ শিক্ষার্থী নিজের দুর্বলতা বুঝে নতুন পরিকল্পনায় সাফল্য অর্জন করতে পারেন। একজন পরাজিত মানুষ পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারেন। বাস্তবকে স্বীকার করাই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

জাতি ও সমাজের ক্ষেত্রেও এই সত্য সমানভাবে প্রযোজ্য। বেকারত্ব, দুর্নীতি, বৈষম্য, অশিক্ষা কিংবা সামাজিক বিভাজনের মতো সমস্যাগুলোকে শুধু অস্বীকার করে উন্নয়নের দাবি করলে প্রকৃত অগ্রগতি আসে না। সমস্যার অস্তিত্ব স্বীকার করে তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর সমাধান গ্রহণ করতে হয়। যে জাতি নিজের দুর্বলতা বুঝে সংশোধন করতে পারে, সে জাতিই ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর যে জাতি আত্মপ্রশংসায় মগ্ন থেকে বাস্তব সমস্যাগুলোকে আড়াল করে, ইতিহাস একসময় তাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়।

বাস্তবতা কখনো আমাদের ভয় দেখায়, কখনো অহংকার ভেঙে দেয়, আবার কখনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তবুও বাস্তবের মুখোমুখি হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বাস্তবকে অস্বীকার করলে আমরা শুধু সত্য থেকেই দূরে সরে যাই না, নিজেদের রক্ষা ও উন্নতির সুযোগও হারিয়ে ফেলি। যে ব্যক্তি সময়ের সংকেত বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেন—তিনিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন।

অতএব, “বাস্তবকে মানতে হবে, না হলে হারিয়ে যেতে হবে”—এটি শুধু একটি সতর্কবাণী নয়; এটি জীবন ও অগ্রগতির চিরন্তন নিয়ম। পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে তাকে বুঝতে হবে, সত্যকে এড়িয়ে না গিয়ে তার মুখোমুখি হতে হবে এবং ব্যর্থতাকে লুকিয়ে না রেখে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ বাস্তবকে গ্রহণ করলেই পথ পরিবর্তনের সুযোগ থাকে; কিন্তু বাস্তবকে অস্বীকার করলে একসময় পথ, সময় এবং নিজের অবস্থান—সবই হারিয়ে যায়।

“একজন রিকশাচালক বলছিলেন—ভগবান আমাদের জন্য নন”

 

“একজন রিকশাচালক বলছিলেন—ভগবান আমাদের জন্য নন”

কথাটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অসহায়তার দীর্ঘ ইতিহাস। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে একজন রিকশাচালক সারাদিন মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন, অথচ নিজের পরিবারকে দু’বেলা খাবার দেওয়াই তাঁর কাছে কঠিন হয়ে ওঠে। সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা সম্মানজনক জীবন—সবই যেন তাঁর নাগালের বাইরে।

মন্দিরের জাঁকজমক ও বিপুল আয়োজন দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—ঈশ্বর কি তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানের কান্না কিংবা অসুস্থ পরিবারের কষ্ট দেখতে পান না? এই হতাশা থেকেই তিনি বলেন, “ভগবান আমাদের জন্য নন।”

আসলে তাঁর অভিযোগ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের বৈষম্যময় সমাজের বিরুদ্ধে। আমরা মন্দিরে করুণা প্রার্থনা করি, অথচ দরিদ্র শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি করি। ঈশ্বর যদি কোথাও থাকেন, তবে তিনি সেই রিকশাচালকের ঘাম, সততা ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামের মধ্যেই আছেন।

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে অন্নই প্রসাদ, অসুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসাই আশীর্বাদ এবং শ্রমিকের কাছে ন্যায্য পারিশ্রমিকই ঈশ্বরের কৃপা। তাই প্রশ্নটি থেকেই যায়—ভগবান কি সত্যিই দরিদ্রের জন্য নন, নাকি আমাদের নিষ্ঠুরতা ও উদাসীনতাই তাঁদের কাছে ঈশ্বরের পথ আড়াল করে দিয়েছে?

একজন রিকশাচালক বলছিল—ভগবান আমাদের জন্য নন

 

“একজন রিকশাচালক বলছিল—ভগবান আমাদের জন্য নন”

একজন রিকশাচালক অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলছিলেন—“ভগবান আমাদের জন্য নন।” কথাটি খুবই সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বঞ্চনা, পরিশ্রম, অপমান এবং অসহায়তার এক গভীর ইতিহাস। যিনি প্রতিদিন নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে অন্য মানুষকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন, তিনি নিজেই যেন জীবনের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য থেকে ক্রমশ দূরে সরে যান। প্রখর রোদ, প্রবল বর্ষা কিংবা শীতের কনকনে হাওয়া—কোনো কিছুই তাঁর শ্রমকে থামাতে পারে না। তবুও সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে তাঁর হাতে এতটুকু অর্থ থাকে না, যা দিয়ে নিশ্চিন্তে পরিবারের মুখে দু’বেলা অন্ন তুলে দিতে পারেন।

সকালবেলা যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ ঘুম থেকে ওঠেনি, তখনই তিনি জীবিকার সন্ধানে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। সারাদিন যাত্রী বহন করে তাঁদের অফিস, বিদ্যালয়, বাজার কিংবা হাসপাতালে পৌঁছে দেন। কোনো কোনো যাত্রী সামান্য ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি করেন, কেউ তাঁর সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলেন, আবার কেউ তাঁকে একজন পূর্ণ মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবেও বিবেচনা করেন না। অথচ তাঁরও একটি পরিবার আছে, সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন আছে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

সম্ভবত তিনি প্রতিদিন কোনো মন্দিরের সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন। সেখানে দেখেন—ভক্তদের ভিড়, মূল্যবান ফুলের মালা, দামি প্রসাদ, জাঁকজমকপূর্ণ পূজা এবং বিপুল অর্থের আয়োজন। কিন্তু মন্দিরের সিঁড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—যে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে এত আয়োজন, সেই ঈশ্বর কি তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানের কান্না শুনতে পান না? তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাব কি ঈশ্বর দেখতে পান না? তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ কেনার অসহায়তা কি ঈশ্বরের নজরে পড়ে না? এই অব্যক্ত প্রশ্নগুলো একসময় জমে গিয়ে তাঁর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে—“ভগবান আমাদের জন্য নন।”

কিন্তু বাস্তবে ভগবান কোনো ধনী কিংবা দরিদ্র মানুষের একক সম্পত্তি নন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, মূল্যবান উপহার কিংবা বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে ঈশ্বরকে নিজের করে নেওয়া যায় না। ঈশ্বর যদি কোথাও থাকেন, তবে তিনি হয়তো সেই রিকশাচালকের ঘামে, তাঁর সততায়, তাঁর আত্মত্যাগে এবং সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার সংগ্রামের মধ্যেই বিরাজমান। সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করেও যিনি অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না, অন্যায় পথে উপার্জন করেন না এবং সমস্ত কষ্ট সহ্য করে পরিবারকে রক্ষা করেন—তাঁর চেয়ে বড় সাধক আর কে হতে পারেন?

প্রকৃতপক্ষে রিকশাচালকের এই অভিযোগ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে। আমরা মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে দয়া ও করুণা প্রার্থনা করি, অথচ মন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দরিদ্র মানুষটির প্রতি সামান্য সহানুভূতিও দেখাই না। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয় করি, কিন্তু একজন শ্রমজীবী মানুষ তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক চাইলে দর-কষাকষি করি। আমরা দেবতার মূর্তিতে ফুল অর্পণ করি, অথচ জীবন্ত মানুষের ঘাম, ক্ষুধা এবং কষ্টকে উপেক্ষা করি। এই বৈপরীত্যই তাঁকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে ভগবান বুঝি কেবল ধনী ও সৌভাগ্যবান মানুষের জন্য।

যেদিন কোনো যাত্রী তাঁর প্রাপ্য ভাড়ার চেয়ে সামান্য বেশি দিয়ে বলবেন, “এই রোদে আপনি অনেক কষ্ট করেছেন”; যেদিন কেউ তাঁকে অবজ্ঞা না করে সম্মানের সঙ্গে “দাদা” বলে সম্বোধন করবেন; যেদিন তাঁর সন্তান অর্থের অভাবে বিদ্যালয় থেকে ফিরে আসবে না; যেদিন অসুস্থ হলে তিনি বিনা বাধায় চিকিৎসা পাবেন—সেদিন হয়তো তাঁর ধারণা বদলে যাবে। তিনি বুঝতে পারবেন, ভগবান দূরের কোনো মন্দিরে নন; মানুষের সহানুভূতি, ন্যায়বোধ এবং ভালোবাসার মধ্যেই তাঁর প্রকাশ।

একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে অন্নই প্রসাদ, অসুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসাই আশীর্বাদ এবং পরিশ্রমী মানুষের কাছে ন্যায্য পারিশ্রমিকই ঈশ্বরের কৃপা। তাই রিকশাচালকের কথাটিকে অবিশ্বাস কিংবা অধার্মিকতা বলে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। বরং আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত—আমাদের আচরণই কি তাঁকে এমন কথা বলতে বাধ্য করেছে? সমাজ যদি একজন পরিশ্রমী মানুষকে মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং ন্যায্য অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাঁর মনে ঈশ্বর সম্পর্কে হতাশা জন্ম নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ভগবান যদি সত্যিই সকলের হন, তবে তাঁর ভক্তদেরও সকল মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পূজা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সঙ্গে মানবসেবা যুক্ত হয়। প্রার্থনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা আমাদের অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। ধর্ম তখনই জীবন্ত হয়ে ওঠে, যখন একজন অসহায় মানুষ আমাদের আচরণের মধ্যে ঈশ্বরের করুণা অনুভব করেন।

রিকশাচালকের সেই করুণ উচ্চারণ তাই আমাদের বিবেকের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন রেখে যায়—ভগবান কি সত্যিই তাঁর জন্য নন, নাকি আমরা ভগবানের নামে এমন এক সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে দরিদ্র মানুষ নিজের জন্য ঈশ্বরের সামান্য স্থানটুকুও খুঁজে পান না? মনে রাখতে হবে, ঈশ্বর কখনো দরিদ্র মানুষকে পরিত্যাগ করেন না; মানুষই অনেক সময় নিজের স্বার্থপরতা, বৈষম্য এবং নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথটি আড়াল করে দেয়।