Saturday, August 29, 2026

“একজন রিকশাচালক বলছিলেন—ভগবান আমাদের জন্য নন”

 

“একজন রিকশাচালক বলছিলেন—ভগবান আমাদের জন্য নন”

কথাটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অসহায়তার দীর্ঘ ইতিহাস। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে একজন রিকশাচালক সারাদিন মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন, অথচ নিজের পরিবারকে দু’বেলা খাবার দেওয়াই তাঁর কাছে কঠিন হয়ে ওঠে। সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা সম্মানজনক জীবন—সবই যেন তাঁর নাগালের বাইরে।

মন্দিরের জাঁকজমক ও বিপুল আয়োজন দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—ঈশ্বর কি তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানের কান্না কিংবা অসুস্থ পরিবারের কষ্ট দেখতে পান না? এই হতাশা থেকেই তিনি বলেন, “ভগবান আমাদের জন্য নন।”

আসলে তাঁর অভিযোগ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের বৈষম্যময় সমাজের বিরুদ্ধে। আমরা মন্দিরে করুণা প্রার্থনা করি, অথচ দরিদ্র শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি করি। ঈশ্বর যদি কোথাও থাকেন, তবে তিনি সেই রিকশাচালকের ঘাম, সততা ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামের মধ্যেই আছেন।

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে অন্নই প্রসাদ, অসুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসাই আশীর্বাদ এবং শ্রমিকের কাছে ন্যায্য পারিশ্রমিকই ঈশ্বরের কৃপা। তাই প্রশ্নটি থেকেই যায়—ভগবান কি সত্যিই দরিদ্রের জন্য নন, নাকি আমাদের নিষ্ঠুরতা ও উদাসীনতাই তাঁদের কাছে ঈশ্বরের পথ আড়াল করে দিয়েছে?

No comments:

Post a Comment