Monday, August 24, 2026

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তিগুলি এখন বিচ্ছিন্ন বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে।

 


বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তিগুলি এখন বিচ্ছিন্ন বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। বাহ্যিকভাবে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে বলে মনে হলেও, দেশের সাধারণ নাগরিক, তৃণমূল স্তরের কর্মী এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বার্থে বিশ্বাসী মানুষই এই দলের প্রকৃত শক্তি। তাই বিভাজন নয়—সাধারণ মানুষকে জাতীয় উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করাই এখন প্রধান কর্তব্য।

২০২৪ সালের আগে এবং পরে ভারতের অবস্থান, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, অর্থনীতি, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রভাবের একটি স্বচ্ছ ও তথ্যনির্ভর তুলনা আরও ব্যাপকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—বাস্তব পরিসংখ্যান, সরকারি নীতি, সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতা সবই জনসমক্ষে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে মানুষ নিজেরাই বিচার করতে পারেন।

শৈশবে কলকাতা ফুটবল লিগের প্রথম ডিভিশনে বহু ছোট ও মাঝারি দলকে খেলতে দেখা যেত। কখনও কখনও সেই দলগুলি বড় ক্লাবকেও পরাজিত করত। কিন্তু সাময়িক সাফল্য তাদের স্থায়ী শক্তিতে পরিণত করতে পারেনি; সময়ের সঙ্গে অনেক দলই হারিয়ে গেছে। রাজনীতিতেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য—কোনও বিচ্ছিন্ন জয় বা সাময়িক জোট দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। তাই সাময়িক রাজনৈতিক উত্থান-পতন নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিছু বিরোধী দলের নীতি, দ্বিচারিতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতারণা, দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও বিভাজনের পুরোনো রাজনীতি আর নির্বিচারে চলতে পারে না। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং সচেতন জনগণই সেই যুগের অবসান ঘটাতে পারে।

আজ ভারত শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের প্রভাব ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দৌড়ে রয়েছে। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তিতে ভারত বিশ্বমঞ্চে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে। যারা একসময় ভারতকে দুর্বল, বিভক্ত অথবা নির্ভরশীল রাখতে চেয়েছিল, তারা আজ ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেখে নিজেদের পুরোনো হিসাব পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

অতএব, ভয়ের নয়—সময় এখন ঐক্য, সতর্কতা, জনসংযোগ এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও অংশগ্রহণই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জয় হিন্দ।

No comments:

Post a Comment