“সব বিচারক আমাদের উপর ভোগ নিলেন”— কথাটি পড়ে মনে হলো, গণপতি পূজাও বুঝি এখন ভক্তির পাশাপাশি উপস্থিতির হিসাব রাখার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে!
কোন বিচারক এলেন, কতজন Advocate এলেন, কে ভোগ নিলেন, কার সঙ্গে ছবি হলো—এসব অবশ্যই আনন্দের বিষয় হতে পারে। কিন্তু এগুলিকে নিজের ব্যক্তিগত সাফল্য বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি বানানোটা একটু অন্যরকম আত্মবিশ্বাসের পরিচয়।
ভক্তির সৌন্দর্য তার নিঃশব্দতায়।
যেখানে ভগবান সামনে, সেখানে নিজের প্রচারকে যতটা সম্ভব পিছনে রাখাই বোধহয় প্রকৃত ভক্তির পরিচয়।
আর যাঁরা প্রতিদিন নাকি আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে ছোট করছেন, তাঁদের প্রতিও আপনি যে “ধন্যবাদ” জানিয়েছেন, সেটি নিঃসন্দেহে উদারতার পরিচয়। তবে একটি ছোট প্রশ্ন থেকেই যায়—
যদি সত্যিই তাঁদের কথায় আপনার কিছু যায়-আসে না, তাহলে তাঁদের নিয়ে এত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনটাই বা কোথায়?
সমালোচনা জীবনেরই অংশ।
যে মানুষ প্রকাশ্যে থাকে, তাকে সমালোচনাও শুনতে হয়। কিন্তু সমালোচনার জবাব বারবার আবেগ দিয়ে নয়—নিজের কাজ ও চরিত্র দিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর।
আর “সবাই আমার মঙ্গল করুন, সমালোচকরাও ভালো থাকুন”—এই প্রার্থনায় আমি সম্পূর্ণ একমত। আমিও তাই চাই।
তবে ভগবানের কাছে আর একটি প্রার্থনা করা যেতে পারে—
যাঁরা আমাদের সমালোচনা করেন, তাঁরা যেন সত্য কথা বলার সাহস রাখেন;
আর আমরা যেন নিজেদের সম্পর্কে বলা সত্য কথাগুলি শোনার সাহস রাখি।
কারণ প্রশংসা শুনে আনন্দ পাওয়া সহজ;
নিজের ভুলের আয়নায় নিজেকে দেখা কঠিন।
আর একটা বিষয় মনে রাখা ভালো—
বিচারক কোনো পূজায় এলেন বলেই সেই পূজার কৃতিত্ব কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে যায় না।
বিচারক, আইনজীবী, বন্ধু, সহকর্মী—সবাই ভক্ত হিসেবে আসতে পারেন। তাঁদের উপস্থিতিকে নিজের সামাজিক প্রভাবের সার্টিফিকেট বানানোর প্রয়োজন নেই।
একইভাবে, কেউ আপনার সঙ্গে নেই মানেই সে আপনার শত্রু নয়।
কেউ আপনার মতের বিরোধিতা করলেই সে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে অপমান করছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়।
সম্পর্কের জগতে একটি সহজ সত্য আছে—
মানুষকে কাছে রাখা যায় আতিথেয়তায়,
কিছুদিন ধরে রাখা যায় প্রয়োজনে,
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পাশে রাখা যায় শুধু বিশ্বাস ও সম্মানের মাধ্যমে।
তাই কে আজ পাশে আছে, কে কাল নেই—তার হিসাব না করে বরং ভাবা ভালো, কেন মানুষ পাশে থাকে এবং কেন দূরে সরে যায়।
আমি কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেই।
আমার পূজা কারও পূজার চেয়ে বড় নয়, কারও পূজাও আমার চেয়ে ছোট নয়।
ভগবানের কাছে সকলেই সমান।
শুধু একটি পার্থক্য আছে—
কেউ ভগবানের জন্য পূজা করে,
আর কেউ কখনও কখনও পূজাকে নিজের পরিচয়ের জন্য ব্যবহার করে।
এই দুইয়ের পার্থক্য মানুষ হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারে না;
কিন্তু সময় খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়।
তাই “কে এলেন”, “কে ভোগ খেলেন”, “কে ছবি তুললেন”—এসব নিয়ে আনন্দ থাকুক, আপত্তি নেই।
কিন্তু শেষ বিচারে মানুষের মূল্যায়ন হবে অন্য জায়গায়—
কতজনকে পাশে পেয়েছিলেন নয়,
কতজন আপনার পাশে থেকে নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করেছিল—সেটাই আসল প্রশ্ন।
আমি আবারও বলছি—
কারও অমঙ্গল চাই না।
আপনারও মঙ্গল হোক, আপনার পরিবারেরও মঙ্গল হোক।
যাঁরা আমার সমালোচনা করেন, তাঁদেরও মঙ্গল হোক।
ভগবান সকলকে শুভবুদ্ধি দিন।
অহংকারের পরিবর্তে বিনয় দিন,
প্রচারের পরিবর্তে আত্মসম্মান দিন,
আর সম্পর্ককে ব্যবহারের পরিবর্তে সম্পর্কের মর্যাদা দেওয়ার শক্তি দিন।
কারণ শেষ পর্যন্ত—
ছবিতে মানুষ পাশে দাঁড়ায়,
ভোগের প্লেটে মানুষ একসঙ্গে বসে,
অনুষ্ঠানে সবাই হাসে—
কিন্তু প্রকৃত সম্পর্কের পরীক্ষা হয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর।
আর সম্মান?
সম্মান চেয়ে নিতে হয় না।
সম্মান ঘোষণা করতে হয় না।
সম্মান প্রচার করতেও হয় না।
মানুষের আচরণই একদিন তার হয়ে সেই কাজটি করে দেয়।
🙏 জয় গণপতি।
জয় সিদ্ধিদাতা।
সকলের মঙ্গল হোক। 🌹🙏
No comments:
Post a Comment